প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ গাইড — আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬

"আয়কর রিটার্ন" কথাটা শুনলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে: এটা কি আমার জন্য? কত ট্যাক্স দিতে হবে? ভুল হলে কি জরিমানা হবে? এই গাইডে রয়েছে NBR-এর সর্বশেষ পরিপত্র (২১ আগস্ট ২০২৫) অনুযায়ী সঠিক তথ্য। পুরোটা পড়লে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

✅ এই নিবন্ধের কর হার ও করমুক্ত সীমা NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ (০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে যাচাই করা হয়েছে। দাখিলের সময়সীমা অর্থ আইন, ২০২৬ থেকে এবং প্রক্রিয়াগত ধাপগুলো সাধারণ ব্যবহারিক তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ব্যক্তি আয়কর
করসেবা সম্পাদকীয় দল • পড়ার সময়: প্রায় ৯ মিনিট • 🔄 শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ✅ কর হার: NBR পরিপত্র ২০২৬-২৭ থেকে যাচাই করা

“আয়কর রিটার্ন” কথাটা শুনলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে: এটা কি আমার জন্য? কত ট্যাক্স দিতে হবে? ভুল হলে কি জরিমানা হবে? এই গাইডে রয়েছে NBR-এর সর্বশেষ পরিপত্র (০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুযায়ী সঠিক তথ্য। পুরোটা পড়লে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

📅 আপনি কোন আয়বর্ষের রিটার্ন দিচ্ছেন? (এটা জানা জরুরি)

বাংলাদেশে “করবর্ষ” ও “আয়বর্ষ” আলাদা। কোন বছরের হার প্রযোজ্য সেটা নির্ভর করে আপনি কখন উপার্জন করেছেন তার উপর।

আয়বর্ষ (Income Year)
২০২৪ থেকে ২৫
করবর্ষ ২০২৫-২৬ | রিটার্নের শেষ তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫
প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিল সম্পূর্ণ গাইড: আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ ও ২০২৪-২৫ | করসেবা
প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ গাইড | করসেবা.কম
✅ আমার জন্য কি রিটার্ন দাখিল প্রযোজ্য?
  • সাধারণ পুরুষ করদাতার বার্ষিক আয় ৪,০০,০০০ টাকার বেশি হলে রিটার্ন বাধ্যতামূলক (আয়বর্ষ ২০২৫-২৬, করবর্ষ ২০২৬-২৭)।
  • মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার ক্ষেত্রে সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা।
  • তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সীমা ৫,২৫,০০০ টাকা।
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধার ক্ষেত্রে সীমা ৫,৫০,০০০ টাকা।
  • e-TIN নম্বর থাকলে সাধারণত আয় কম হলেও রিটার্ন দিতে হয়, কিছু NBR-নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া।
📋 সংক্ষিপ্ত রায়: উপরের যেকোনো একটি শর্ত আপনার জন্য প্রযোজ্য হলে প্রতি বছর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে দাখিলের সময়ের উপর ভিত্তি করে প্রণোদনা বা জরিমানা প্রযোজ্য হয়, তাই যত আগে সম্ভব দাখিল করাই ভালো।
🧮 ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন →

আয়কর রিটার্ন কী? (সহজ ব্যাখ্যা)

আয়কর রিটার্ন হল একটি নির্দিষ্ট ফর্ম, যেখানে আপনি সরকারকে জানান: গত আয়বর্ষে আপনার মোট আয় কত ছিল, কত ট্যাক্স দিয়েছেন, এবং কোনো রিবেট বা ছাড় পাওয়ার যোগ্য কিনা। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এ জমা দিতে হয়।

সহজ কথায়: আপনি কত উপার্জন করেছেন এবং তার উপর কত ট্যাক্স দেওয়া উচিত, সেই হিসাব সরকারকে জানানোই রিটার্ন দাখিল। আয়কর ও ভ্যাটের পার্থক্য সম্পর্কে জানতে আমাদের আয়কর বনাম VAT গাইডটি পড়ুন।

কে আয়কর রিটার্ন দিতে বাধ্য?

আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪ ও NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ হলে রিটার্ন দিতে হবে:

করদাতার ধরন করমুক্ত সীমা (আয়বর্ষ ২০২৫-২৬) রিটার্ন বাধ্যতামূলক?
সাধারণ পুরুষ করদাতা ৪,০০,০০০ টাকার বেশি ✅ হ্যাঁ
মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব ৪,৫০,০০০ টাকার বেশি ✅ হ্যাঁ
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৫,২৫,০০০ টাকার বেশি ✅ হ্যাঁ
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা ৫,৫০,০০০ টাকার বেশি ✅ হ্যাঁ
e-TIN নম্বরধারী যেকোনো ব্যক্তি আয় যাই হোক ✅ সাধারণত হ্যাঁ (কিছু NBR-নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া)
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: সাধারণত TIN থাকলে আয় না থাকলেও প্রতি বছর “শূন্য রিটার্ন” (Zero Return) দাখিল করতে হয়, তবে NBR-এর নির্ধারিত কিছু ব্যতিক্রম শ্রেণির করদাতা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। রিটার্ন দাখিল না করলে উৎসে কর কর্তনের সময় প্রযোজ্য হারের চেয়ে বেশি হারে কর কাটা হতে পারে এবং বিভিন্ন সেবায় বাধার সৃষ্টি হতে পারে।
NBR e-Tax Portal etaxnbr.gov.bd: e-Return দাখিলের সরকারি পোর্টালের স্ক্রিনশট
NBR e-Tax Portal (etaxnbr.gov.bd): e-Return দাখিলের সরকারি পোর্টাল | সূত্র: NBR বাংলাদেশ

আয়কর স্ল্যাব: উভয় আয়বর্ষের সঠিক হার

NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ ও পূর্ববর্তী পরিপত্র অনুযায়ী দুটি আয়বর্ষের হার ভিন্ন। নিচে উভয়ই দেওয়া হলো। আপনি কখন উপার্জন করেছেন সেই বছরের কলামটি দেখুন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ বাজেটে ট্যাক্সে কী পরিবর্তন এলো তা আরও বিস্তারিত জানতে আমাদের বাজেট বিশ্লেষণ আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

আয়বর্ষ ২০২৪ থেকে ২৫ (করবর্ষ ২০২৫-২৬)
মোট আয়ের স্তরহার
প্রথম ৩,৫০,০০০ টাকা০%
পরবর্তী ১,০০,০০০ টাকা৫%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়৩০%
আয়বর্ষ ২০২৫ থেকে ২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭)
মোট আয়ের স্তরহার
প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা০%
⚠️ ৫% স্তর নেই, সরাসরি ১০% থেকে শুরু
পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা১০%
পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা১৫%
পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা২০%
পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা২৫%
অবশিষ্ট মোট আয়৩০%
সূত্র: আয়বর্ষ ২০২৪-২৫-এর হার NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২৬ থেকে, আয়বর্ষ ২০২৫-২৬-এর হার আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ থেকে। যাচাই: সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ করমুক্ত সীমা: আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭)

করদাতার ধরনকরমুক্ত সীমা
মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব৪,৫০,০০০ টাকা
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান আহত “জুলাই যোদ্ধা”৫,৫০,০০০ টাকা

ন্যূনতম কর, অনেকেই জানেন না

আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, করমুক্ত সীমার উপরে আয় থাকলে হিসাব করা করের পরিমাণ শূন্য বা ঋণাত্মক হলেও একটি ন্যূনতম কর দিতে হয়।

ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি এলাকা
৫,০০০ ৳
আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ (পুরনো নিয়ম)
অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা
৪,০০০ ৳
আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ (পুরনো নিয়ম)
সিটি কর্পোরেশন ব্যতীত অন্যান্য এলাকা
৩,০০০ ৳
আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ (পুরনো নিয়ম)
💡 আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে (করবর্ষ ২০২৬-২৭, বর্তমান): ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা (নতুন করদাতার ক্ষেত্রে মাত্র ১,০০০ টাকা)। এলাকাভিত্তিক পার্থক্য আর নেই।
💡 উদাহরণ হিসাব: আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭, বর্তমান)

ধরুন, ঢাকায় চাকরি করেন এবং আপনার বার্ষিক বেতন ৬,০০,০০০ টাকা (৬ লাখ)।

→ প্রথম ৪,০০,০০০ টাকা করমুক্ত = ০ টাকা

→ পরবর্তী ২,০০,০০০ টাকায় ১০% = ২০,০০০ টাকা

মোট হিসাব করা কর: ২০,০০০ টাকা

📌 বিনিয়োগ রিবেট বাদ দিলে আরও কমতে পারে। কিন্তু ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা দিতেই হবে।

🖥️ e-Return পোর্টালে যান etaxnbr.gov.bd →

রিটার্ন দাখিলের জন্য কোন কাগজপত্র লাগবে?

রিটার্ন দাখিলের আগে নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন। সম্পূর্ণ চেকলিস্টের জন্য আমাদের আয়কর রিটার্নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন।

  • e-TIN সনদ: না থাকলে আগে নিবন্ধন করুন
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • বেতন সনদ বা TDS সনদ: নিয়োগকর্তার দেওয়া আয়কর সনদ
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট: সঞ্চয়ী হিসাবের সর্বশেষ ব্যালেন্স
  • বিনিয়োগের প্রমাণ: সঞ্চয়পত্র, FDR, জীবন বীমার প্রিমিয়াম রসিদ (রিবেটের জন্য)
  • সম্পদের তথ্য: গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট থাকলে কাগজপত্র
  • পূর্ববর্তী বছরের রিটার্নের Acknowledgement Slip (থাকলে)
💡 প্রথমবারের টিপস: সব কাগজের স্ক্যান কপি PDF ফরম্যাটে, সাইজ ১ MB-এর কম, একটি ফোল্ডারে রাখুন। e-Return পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

ধাপে ধাপে e-Return দাখিলের নিয়ম

e-Return দাখিলের ৫টি ধাপ: TIN নিবন্ধন, লগইন, আয়বর্ষ নির্বাচন, তথ্য পূরণ, কর পরিশোধ | করসেবা
e-Return দাখিলের ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া | করসেবা.কম | ছবি: Canva
  • ১
    e-TIN নিবন্ধন করুন (না থাকলে)

    etaxnbr.gov.bd-এ যান, “নতুন নিবন্ধন” বাটনে ক্লিক করুন। NID নম্বর দিয়ে যাচাই করুন। ১২ সংখ্যার TIN তাৎক্ষণিক পাবেন। কোনো অফিসে যেতে হয় না। বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানতে পড়ুন: e-TIN নিবন্ধন সম্পূর্ণ গাইড।

  • ২
    e-Return পোর্টালে লগইন করুন

    TIN নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে etaxnbr.gov.bd-এ লগইন করুন। নতুন হলে মোবাইল OTP দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

  • ৩
    সঠিক আয়বর্ষ নির্বাচন করুন

    পোর্টালে কোন আয়বর্ষের রিটার্ন জিজ্ঞেস করবে। আয়বর্ষ ২০২৫-২৬-এর আয়ের জন্য আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ নির্বাচন করুন। সঠিক বর্ষ না দিলে ভুল হারে কর হিসাব হবে। এই আয়বর্ষ থেকে দাখিলের সময়ভিত্তিক প্রণোদনা-জরিমানা কাঠামো প্রযোজ্য, তাই যত আগে সম্ভব দাখিল করুন।

  • ৪
    আয় ও বিনিয়োগের তথ্য পূরণ করুন

    বেতন, ব্যবসায়িক আয়, বাড়িভাড়ার আয়, সঞ্চয়পত্রের সুদ সব আলাদাভাবে দেখান। সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমার প্রিমিয়াম ইত্যাদির তথ্য দিয়ে রিবেট দাবি করুন। কর রিবেট সম্পর্কে আরও জানতে পড়ুন: কর রিবেট ও বিনিয়োগ ভাতা গাইড।

  • ৫
    কর পরিশোধ ও সাবমিট করুন

    নেট করের পরিমাণ দেখাবে। iBAS++ পোর্টাল বা ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে পরিশোধ করুন। পেমেন্ট রেফারেন্স নম্বর দিন এবং সাবমিট করুন। Acknowledgement Slip ডাউনলোড করে রাখুন।

🚨 দাখিলের সময়সীমা বদলেছে: আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭) থেকে একক “৩০ নভেম্বর” তারিখের বদলে অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা সংশোধিত আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৭০ অনুযায়ী সময়ভিত্তিক প্রণোদনা-জরিমানা কাঠামো চালু হয়েছে:
• ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর: ৫% প্রণোদনা (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা)
• ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর: কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা নেই
• ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ: ২% জরিমানা (সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা)
• ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন: ৫% জরিমানা (সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা)
আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ (করবর্ষ ২০২৫-২৬) পর্যন্ত পুরনো নিয়মে ৩০ নভেম্বরের পর প্রতি মাসে বকেয়া করের ২% হারে সুদ প্রযোজ্য ছিল। বিস্তারিত জানতে পড়ুন: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও জরিমানা গাইড।

সাধারণ ভুল এবং কীভাবে এড়াবেন

  • ভুল ১: পুরনো ৭ স্তরের হিসাব ব্যবহার করা। বর্তমান আয়বর্ষে (২০২৫-২৬) ৫% স্তর নেই, মোট ৬টি স্তর।
  • ভুল ২: দুই বছরের হার গুলিয়ে ফেলা। আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬-এর হার আলাদা।
  • ভুল ৩: বিনিয়োগ রিবেট ভুলে যাওয়া। সঞ্চয়পত্র, FDR, জীবন বীমায় বিনিয়োগের উপর রিবেট পাওয়া যায়।
  • ভুল ৪: ন্যূনতম কর না দেওয়া। করমুক্ত সীমার উপরে আয় থাকলে হিসাব করা কর শূন্য হলেও ন্যূনতম কর দিতে হবে।
  • ভুল ৫: Acknowledgement Slip না রাখা। এই রসিদ ব্যাংক লোন, PSR, ক্রেডিট কার্ড সহ ৩৯টি সেবায় প্রয়োজন।
  • ভুল ৬: শূন্য রিটার্ন না দেওয়া। আয় না থাকলেও TIN থাকলে সাধারণত রিটার্ন দিতে হয় (ব্যতিক্রম না হলে)।

e-Return বনাম ম্যানুয়াল রিটার্ন

বিষয়e-Return (অনলাইন)ম্যানুয়াল (অফিসে)
সময়১ থেকে ২ ঘণ্টা, ঘরে বসেঅফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন
সুবিধাতাৎক্ষণিক রসিদ, স্বয়ংক্রিয় হিসাবব্যক্তিগত সহায়তা পাওয়া যায়
পরামর্শপ্রথম পছন্দজটিল কেসে বিবেচনা করুন
🤔 কখন নিজে করবেন, কখন বিশেষজ্ঞ দরকার?
✅ নিজেই করতে পারবেন যদি…
  • শুধু বেতন থেকে আয়
  • কোনো ব্যবসা বা অংশীদারিত্ব নেই
  • কোনো বিদেশী আয় নেই
  • সম্পদের পরিমাণ সরল ও স্পষ্ট
  • আগে কখনো ট্যাক্স সমস্যা হয়নি
⚠️ বিশেষজ্ঞ দরকার হবে যদি…
  • একাধিক উৎস থেকে আয় (ব্যবসা এবং বেতন)
  • ফ্রিল্যান্সিং বা বিদেশী রেমিট্যান্স আছে
  • ট্যাক্স অডিট নোটিশ পেয়েছেন
  • জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন এই বছর
  • মূলধনী আয় বা শেয়ার হস্তান্তর হয়েছে
করসেবা বিশেষজ্ঞ ট্যাক্স সহায়তা | আয়কর রিটার্ন দাখিলে সাহায্য নিন
করসেবা বিশেষজ্ঞ সেবা | ছবি: Canva
প্রথমবার রিটার্ন দিতে সাহায্য দরকার?
আমাদের বিশেষজ্ঞ দল আপনার পাশে আছে। নাম ও ফোন নম্বর দিন, আমরা কল করব।
📞 বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন →

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬-এর করের হার কি একই?
না, দুটি আলাদা। আয়বর্ষ ২০২৪-২৫-এ ৩,৫০,০০০ টাকা করমুক্ত এবং ৫% থেকে শুরু করে ৩০% পর্যন্ত ৭টি স্তর ছিল। আয়বর্ষ ২০২৫-২৬-এ (বর্তমান) করমুক্ত সীমা বেড়ে ৪,০০,০০০ টাকা হয়েছে এবং ৫%-এর স্তর বাদ দিয়ে সরাসরি ১০% থেকে শুরু হয়। সূত্র: NBR আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২৬ ও আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭।
প্রথমবার কি অফিসে যেতে হবে?
না। etaxnbr.gov.bd-এ TIN নিবন্ধন থেকে শুরু করে রিটার্ন সাবমিট পর্যন্ত সব ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যায়। NBR-এর সব ই-সেবার তালিকা দেখতে পড়ুন: NBR-এর সব ই-সেবা সম্পূর্ণ তালিকা।
রিটার্ন না দিলে কী হবে?
আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ (করবর্ষ ২০২৬-২৭) থেকে দেরিতে দাখিলে নির্দিষ্ট মাসিক সুদ নয়, বরং সময়ভিত্তিক জরিমানা প্রযোজ্য: ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দাখিল করলে ২% জরিমানা (সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা), ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে দাখিল করলে ৫% জরিমানা (সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা)। এর বাইরে উৎসে কর কর্তনের সময় বেশি হারে কর কাটা হতে পারে এবং PSR, ব্যাংক লোন সহ বিভিন্ন সেবায় সমস্যা হতে পারে। আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ পর্যন্ত পুরনো নিয়মে ৩০ নভেম্বরের পর প্রতি মাসে ২% সুদ প্রযোজ্য ছিল। বিস্তারিত জানুন: রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ও জরিমানা।
বিনিয়োগ রিবেট কীভাবে পাব?
সঞ্চয়পত্র, জীবন বীমার প্রিমিয়াম, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও স্বীকৃত তহবিলে বিনিয়োগের উপর রিবেট পাওয়া যায়। ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে হার ১০% এবং সর্বোচ্চ রিবেটযোগ্য বিনিয়োগ সীমা ৭,৫০,০০০ টাকা (আয়ের একটি নির্দিষ্ট শতাংশও পৃথক সীমা হিসেবে প্রযোজ্য)। রিটার্ন ফর্মে সংশ্লিষ্ট তফসিলে তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব হবে। বিস্তারিত গাইড: কর রিবেট ও বিনিয়োগ ভাতা সম্পূর্ণ গাইড।
ন্যূনতম কর কি সবাইকে দিতে হবে?
না। করমুক্ত সীমার উপরে আয় থাকলে তবেই ন্যূনতম কর প্রযোজ্য। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে ন্যূনতম কর দিতে হবে না। তবে TIN থাকলে রিটার্ন দাখিল করতেই হবে।
ফ্রিল্যান্সাররা কীভাবে রিটার্ন দেবেন?
ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের উপর নির্দিষ্ট শর্তে করছাড় পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের আয়কর সম্পূর্ণ গাইড পড়ুন।

সারসংক্ষেপ

আয়কর রিটার্ন দাখিল ভয়ের কিছু নয়। মনে রাখুন: আয়বর্ষ ২০২৪-২৫-এর করমুক্ত সীমা ছিল ৩,৫০,০০০ টাকা, ৭টি স্তরে সর্বোচ্চ ৩০% পর্যন্ত কর প্রযোজ্য ছিল। আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে (বর্তমান) করমুক্ত সীমা বেড়ে ৪,০০,০০০ টাকা হয়েছে এবং ৫% স্তর বাদ গেছে। আয়বর্ষ ২০২৪-২৫ পর্যন্ত রিটার্নের শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর, তবে আয়বর্ষ ২০২৫-২৬ থেকে সময়ভিত্তিক প্রণোদনা-জরিমানা কাঠামো প্রযোজ্য, তাই যত আগে সম্ভব দাখিল করাই সবচেয়ে ভালো। অনলাইনে etaxnbr.gov.bd-এ ঘরে বসেই রিটার্ন দেওয়া যায়।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের এই গাইডগুলো পড়ুন: e-TIN নিবন্ধন গাইড, TDS কর্তন ও সমন্বয়, এবং PSR প্রত্যয়নপত্র গাইড। আরও জানতে NBR-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই নিবন্ধের কর হার ও করমুক্ত সীমা NBR-এর আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ (জারি: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নথি নং ০৮.০১.০০০০.০০০.০৩০.০৩.০২৯.২৬.১১২) এবং পূর্ববর্তী আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২৬ (জারি: ২১ আগস্ট ২০২৫, নথি নং ০৮.০১.০০০০.০০০.০৩১.০৮.০০০১.২৫.৮৪) থেকে যাচাই করা হয়েছে। দাখিলের সময়সীমা ও জরিমানা কাঠামো অর্থ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট সংশোধনী থেকে নেওয়া। এর বাইরে e-Return পোর্টাল ব্যবহারের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত তথ্য সাধারণ ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা এবং এই নির্দিষ্ট পরিপত্র দুটি দ্বারা পৃথকভাবে প্রত্যয়িত নয়।

⚠️ আইনি দায়মুক্তি: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে এবং কোনো আইনি বা কর পরামর্শ নয়। করসেবা.কম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বা সরকারের কোনো অংশ নয়। আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য একজন নিবন্ধিত কর পরামর্শদাতার সাথে যোগাযোগ করুন।
মূল সূত্র: আয়কর পরিপত্র ২০২৬-২০২৭ | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ | আয়কর আইন ২০২৩ | নথি নং: ০৮.০১.০০০০.০০০.০৩০.০৩.০২৯.২৬.১১২, তারিখ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (পূর্ববর্তী পরিপত্র ২০২৫-২৬, নথি নং ০৮.০১.০০০০.০০০.০৩১.০৮.০০০১.২৫.৮৪, তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৫)

6 Comments

  1. […] একবার TIN পেলে তা সারাজীবনের জন্য বৈধ, নবায়নের প্রয়োজন নেই। প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে TIN-ই প্রথম ধাপ। বিস্তারিত জানতে পড়ুন: প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সম্পূ…। […]

  2. […] একবার TIN পেলে তা সারাজীবনের জন্য বৈধ, নবায়নের প্রয়োজন নেই। প্রথমবার রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে TIN-ই প্রথম ধাপ। বিস্তারিত জানতে পড়ুন: প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের সম্পূ…। […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *