রিটার্ন দাখিলের দিন হুট করে কাগজ খুঁজতে বসলে সময় নষ্ট হয় এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। করদাতার ধরন অনুযায়ী কোন কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখা দরকার, তার সম্পূর্ণ চেকলিস্ট এখানে দেওয়া হলো।
- e-TIN সার্টিফিকেট ও লগইন তথ্য
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল
- ব্যাংক হিসাবের তথ্য (হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখা)
- পূর্ববর্তী বছরের Acknowledgement Slip (থাকলে)
সবার জন্য অপরিহার্য কাগজপত্র
করদাতার ধরন যাই হোক না কেন, নিচের কাগজগুলো ছাড়া রিটার্ন দাখিল শুরুই করা যায় না।
- e-TIN সার্টিফিকেট: TIN নম্বর ও নিবন্ধনের সময় ব্যবহৃত ইউজার আইডি-পাসওয়ার্ড।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): স্মার্ট NID হলে ১৭ সংখ্যার নম্বর।
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট: সচল হিসাবগুলোর সাম্প্রতিক স্টেটমেন্ট বা ব্যালেন্স সার্টিফিকেট।
- পূর্ববর্তী বছরের রিটার্নের Acknowledgement Slip: প্রথমবার হলে প্রযোজ্য নয়।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি: প্রথমবার কাগজে (ম্যানুয়াল) দাখিলের ক্ষেত্রে কিছু কর অঞ্চলে চাওয়া হতে পারে।
চাকরিজীবীদের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র
| কাগজ | কেন লাগবে |
|---|---|
| বেতন সনদ (Salary Certificate) | নিয়োগকর্তার দেওয়া বার্ষিক মোট বেতনের প্রমাণ |
| TDS সনদ (Tax Deduction Certificate) | বেতন থেকে ইতিমধ্যে কর্তিত করের পরিমাণ, রিটার্নে সমন্বয়ের জন্য |
| প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্ট | নিজের ও প্রতিষ্ঠানের চাঁদার পরিমাণ, রিবেটের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে |
| বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ভাতার বিবরণ | করমুক্ত অংশ আলাদা করে দেখানোর জন্য |
TDS ঠিকভাবে কীভাবে সমন্বয় করবেন তা বিস্তারিত জানতে পড়ুন: বেতনভোগীদের TDS কর্তন ও সমন্বয় গাইড।
ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য
| কাগজ | কেন লাগবে |
|---|---|
| ট্রেড লাইসেন্স | ব্যবসা পরিচালনার প্রমাণ |
| আয়-ব্যয়ের হিসাব (Income Statement) | বার্ষিক লাভ-ক্ষতির হিসাব, নিজের রাখা খাতা বা সফটওয়্যার থেকে |
| ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট | ব্যক্তিগত হিসাব থেকে আলাদা রাখা ভালো |
| ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড | থাকলে রেমিট্যান্স-সংক্রান্ত সুবিধা দাবির জন্য সহায়ক |
| রেমিট্যান্স গ্রহণের ব্যাংক সার্টিফিকেট (FMJ/Encashment Certificate) | বিদেশি আয় করমুক্ত দেখানোর জন্য প্রমাণ |
সম্পত্তি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র
বাড়িভাড়া থেকে আয়, নতুন সম্পত্তি কেনা বা বিনিয়োগ থাকলে নিচের কাগজগুলো প্রয়োজন হবে।
- বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র ও রশিদ: ভাড়া থেকে আয় দেখানোর জন্য।
- জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল: এই বছর কোনো সম্পত্তি কিনে থাকলে।
- সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট ও সুদের প্রত্যয়নপত্র: বিনিয়োগ রিবেট দাবির জন্য।
- FDR-এর কাগজ ও ব্যাংক থেকে সুদ প্রত্যয়নপত্র
- জীবন বীমার প্রিমিয়াম রসিদ: রিবেটযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য।
- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রমাণ: BO হিসাবের স্টেটমেন্ট, থাকলে।
সম্পূর্ণ চেকলিস্ট একনজরে
| করদাতার ধরন | মূল কাগজপত্র |
|---|---|
| সবার জন্য | e-TIN সার্টিফিকেট, NID, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পূর্ববর্তী Acknowledgement Slip |
| চাকরিজীবী | বেতন সনদ, TDS সনদ, প্রভিডেন্ট ফান্ড স্টেটমেন্ট |
| ব্যবসায়ী | ট্রেড লাইসেন্স, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যবসায়িক ব্যাংক স্টেটমেন্ট |
| ফ্রিল্যান্সার | ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড, রেমিট্যান্স এনক্যাশমেন্ট সার্টিফিকেট |
| সম্পত্তি বা বিনিয়োগকারী | দলিল, ভাড়ার চুক্তি, সঞ্চয়পত্র, FDR, জীবন বীমা, শেয়ার স্টেটমেন্ট |
ডিজিটাল স্ক্যান রাখার টিপস
প্রতিটি কাগজের স্ক্যান কপি PDF ফরম্যাটে, ফাইলের নাম বুঝতে সুবিধাজনক রেখে একটি নির্দিষ্ট ফোল্ডারে সংরক্ষণ করুন। e-Return পোর্টালে আপলোডের সময় ফাইল সাইজ ছোট রাখা ভালো। প্রথমবার আপলোডের সময়সীমা ও ধাপ বিস্তারিত জানতে পড়ুন: প্রথমবার আয়কর রিটার্ন দাখিলের গাইড।
- শুধু বেতন থেকে আয়
- একটি বা দুটি সাধারণ বিনিয়োগ আছে
- কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় হয়নি এই বছর
- কাগজপত্র মোটামুটি হাতের কাছে আছে
- একাধিক উৎস থেকে জটিল আয়
- সম্পত্তি বিক্রি করেছেন, মূলধনী আয় আছে
- পুরনো কাগজপত্র হারিয়ে গেছে বা অসম্পূর্ণ
- ব্যবসার হিসাব গোছানো নেই
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সারসংক্ষেপ
আয়কর রিটার্নের কাগজপত্র মূলত তিন ভাগে ভাগ করে ভাবা যায়: সবার জন্য অপরিহার্য মৌলিক কাগজ, আয়ের উৎস অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র, এবং সম্পত্তি বা বিনিয়োগ থাকলে তার দলিলপত্র। রিটার্ন দাখিলের অন্তত কয়েকদিন আগে এই তালিকা ধরে সব কাগজ একসাথে গুছিয়ে রাখলে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়ানো যায়।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে পড়ুন: প্রথমবার রিটার্ন দাখিলের গাইড। কাগজপত্র নিয়ে দ্বিধায় থাকলে বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
মূল সূত্র: আয়কর আইন ২০২৩ | NBR e-Return পোর্টাল




[…] 📄 রিটার্ন দাখিলের জন্য কোন কাগজপত্র লাগবে, সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন: আয়কর রিটার্নের কাগজপত্রের চেকলিস্ট […]